Blog, Health&Beauty, Lifestyle

সানগ্লাস যতটা না ফ্যাশন; তার চেয়ে বেশি প্রয়োজনে।

সানগ্লাস যতটা না ফ্যাশন; তার চেয়ে বেশি প্রয়োজনে। বয়সের সঙ্গে বাড়ে চোখের নানা সমস্যাও; যার জন্য দায়ী সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। মাইগ্রেন বা সাইনাসের সমস্যা, চোখের কর্নিয়া এবং রেটিনার জন্য ক্ষতিকর এই রশ্মি আটকাতে ও প্রতিহত করতে পারে সানগ্লাস। সরাসরি চোখে রোদ লাগাও ক্ষতিকর। চোখে রোদ পড়লে আমরা চোখ সংকুচিত করে তাকাই। ফলে চোখের চারপাশের নরম চামড়ায় দ্রুত ভাঁজ পড়ে। এ থেকে সুরক্ষা পেতেও সানগ্লাস বেশ উপকারী।

পোশাকের মতোই সারা বছর সানগ্লাসের ফ্যাশনেও নানা ট্রেন্ড বারবার ঘুরেফিরে আসে। তাই সানগ্লাসের কালেকশনেও বৈচিত্র্য আসে। ফ্যাশনেবল তরুণ-তরুণীরা ওজনে হালকা-পাতলা, গাঢ় রং, শেডের সানগ্লাসের প্রতিই বেশি আগ্রহী। ফ্যাশন ও প্রয়োজন—দুই ক্ষেত্রেই সানগ্লাসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সানগ্লাস পরে আয়নায় নিজেকে একটু মনোযোগ দিয়ে দেখে মুখের গড়ন বুঝে সানগ্লাস কেনা উচিত। তাতে চোখের সুরক্ষার পাশাপাশি ফ্যাশনেও রুচিবোধ প্রকাশিত হবে। পরিচিতি পাওয়া যাবে স্টাইলিশ একজন মানুষ হিসেবেও।

ইদানীং সব বয়সী মানুষই সানগ্লাস ব্যবহার করছেন। সানগ্লাস এখন আর বাদামি কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন রং ও আকারের সানগ্লাস পাওয়া যায়। বেগুনি, নীল, সাদা, পানি, কমলা রঙের সানগ্লাসও বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। রঙের ভিন্নতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা রঙের বর্ডারযুক্ত সানগ্লাসও। নিত্য-নতুন সানগ্লাস ব্যবহার করে চেহারায় ও সাজে বৈচিত্র্য আনাও সহজ হয়েছে। তবে চেহারা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই গ্লাস, ডিজাইন বেছে নিতে পারলে নিজেকে সবার মধ্যে আলাদা করে ফুটিয়ে তোলা যায়।
মুখের ধরন ও গায়ের রং অনুযায়ী সানগ্লাস বেছে নিতে হবে। এখন চড়া রংগুলো খুব ট্রেন্ডি হলেও যা তা রং বেছে নিলে হবে না। উজ্জ্বল গায়ের রঙের সঙ্গে স্বচ্ছ, নীল, সবুজ, বাদামি, গোলাপি ফ্রেম সবচেয়ে ভালো মানায়। কালো ত্বকে মেটালিক ফ্রেম, কালো, কফি, গাঢ় বা হালকা বাদামি রঙের সানগ্লাস মানিয়ে যায়।
হার্ট শেপ চেহারায় কপাল চওড়া ও চোয়াল সরু থাকে। ক্যাট আই, স্পোর্কি টাইপের সানগ্লাস বেশ মানিয়ে যায় এই চেহারায়। ডিম্বাকৃতি চেহারায় সব ধরনের সানগ্লাসই মানায়। ক্যাটস আই কিংবা অ্যাভিয়েটর ফ্রেমের সানগ্লাস গোল চেহারাকে কিছুটা হলেও লম্বাটে দেখাবে। আয়তাকার, কোণযুক্ত ফ্রেমের সানগ্লাসও তাদের জন্য ভালো।
বর্গাকৃতির চেহারায় মেটালিক ফ্রেম অথবা গ্লাসের নিচের অংশ রিম লেস সানগ্লাস মানিয়ে যায়। লম্বা মুখের সঙ্গে গোলাকৃতির সানগ্লাস ভালো যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সানগ্লাসের ফ্রেম যেন খুব ছোট না হয়। চতুর্ভুজাকৃতি চেহারায় ক্যাটস আই স্টাইল ভালো যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সানগ্লাসে যেন চোখের কোল ঢেকে যায়; তাই সানগ্লাস একটু বড় হওয়াই ভালো।
মূলত চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়া থেকে সানগ্লাসগুলো আসে। মানসম্মত সানগ্লাস থাকে শোরুমে, বাকি সব যায় ফুটপাতে। চোখে সমস্যা থাকলে সাধারণ সানগ্লাস তেমন উপযোগী নয়। পাওয়ার চশমা ব্যবহারকারীদের জন্য সানগ্লাস কিছুটা দুর্লভ। সে ক্ষেত্রে চোখের পাওয়ার দিয়ে সানগ্লাস বানিয়ে নিতে হবে। প্রায় চশমার দোকানেই সানগ্লাসে পাওয়ার বসানোর ব্যবস্থা থাকে। তাই পাওয়ার দিয়ে সানগ্লাস বানাতে গেলে ফ্যাশন সচেতনতার সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে চোখের সুরক্ষা।
ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস

ফুটপাত থেকে শুরু করে নামকরা স্টোর—সবখানেই সানগ্লাস পাওয়া গেলেও ব্র্যান্ডেড জিনিসের প্রতি সবারই বাড়তি আকর্ষণ থাকে। ব্র্যান্ডের দামি সানগ্লাস কেনার আগে সেটা অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা উচিত, দেখতে হবে সেটা মানাচ্ছে কি না। নয়তো পরে মন খারাপ হতে পারে। ব্র্যান্ডেড সানগ্লাস চাইলে অবশ্যই ব্র্যান্ডের দোকানে যেতে হবে। ব্র্যান্ডেড সানগ্লাসে দুই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। গুণগত মান ভালো থাকে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা ফ্যাশনেবল হয়।

কেমন সানগ্লাস পরা উচিত

ফ্যাশনেবল সানগ্লাস অতি বেগুনি রশ্মির পুরোটাই আটকাতে পারে না। সানগ্লাস কেনার আগে তাই এই ব্যাপারটি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। এমন সানগ্লাস কেনা প্রয়োজন যা অন্তত শতভাগ সূর্যের ইউভিএ এবং ইউভিবি রশ্মি থেকে চোখকে বাঁচাতে পারে। ইউভি ৪০০–এর লেবেলযুক্ত সানগ্লাস চোখকে সুরক্ষিত রাখে, সুতরাং কেনার সময় এটা দেখে নেওয়া খুবই জরুরি। পোলারাইজড লেন্সযুক্ত সানগ্লাস সূর্যের কড়া আলো থেকে তো বাঁচায়ই, তা ছাড়া এর সাহায্যে চারপাশে পরিষ্কার দেখাও যায়। পোলারাইজড লেন্স পানি, বরফ আর কাচ থেকে প্রতিফলিত আলোকরশ্মি কমাতে সাহায্য করে। এসব সানগ্লাস বেড়াতে গেলে বা ড্রাইভিংয়ের সময় খুবই কার্যকরী। আবার যারা বাইরে বেশির ভাগ সময় কাটান, তাদের জন্য র‌্যাপ অ্যারাউন্ড সানগ্লাস চোখকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত রাখে।
কেমন সানগ্লাস পরা উচিত

কোনো ঘরে, অনুষ্ঠানে, মার্কেটে, ইনডোর গেইমসের স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে সানগ্লাসটি খুলে রাখা সৌজন্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।অফিশিয়াল কাজে যেকোনো এক রঙের গ্লাস ও ফ্রেম ব্যবহার করা উচিত। কোথাও বেড়াতে বের হলে মৌসুমের সঙ্গে খাপ খায়, এমন বাহারি সানগ্লাস পরতে হবে। একই সানগ্লাস সব সময় ব্যবহার না করে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সানগ্লাসও পরিবর্তন করা উচিত। ঘন ঘন চুলে সানগ্লাস আটকে রাখা শুধু বেমানান দেখায় না, এটা রুচি সম্পর্কে অসচেতনতার পরিচায়ক।একই সানগ্লাস সব সময় ব্যবহার না করে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সানগ্লাসও পরিবর্তন করা উচিত। ঘন ঘন চুলে সানগ্লাস আটকে রাখা শুধু বেমানান দেখায় না, এটা রুচি সম্পর্কে অসচেতনতার পরিচায়ক।একই সানগ্লাস সব সময় ব্যবহার না করে মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সানগ্লাসও পরিবর্তন করা উচিত। ঘন ঘন চুলে সানগ্লাস আটকে রাখা শুধু বেমানান দেখায় না, এটা রুচি সম্পর্কে অসচেতনতার পরিচায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.